চবি ছাত্রীর ‘কিচেন বুক বাই ঝুম’, বছরে বিক্রি ৫ লাখ

ক্লাস শেষ করে হলে এসে খাবার পেতেন না। আবার পেলেও সেটা না খাওয়ার মতোই। একবেলা কোনোভাবে খেয়ে দিন কাটাতে হতো। মা সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়ের জন্য ক্যাম্পাসে পরিবার নিয়ে চলে আসবেন। বাবাও সায় দিলেন। খাবারের চিন্তা এখন থেকে করতে হচ্ছে না।

তবে তিনি ভাবলেন তার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে স্বাদহীন খাবার খেতে হচ্ছে তাদের জন্য কিছু করার। বাসায় তৈরি খাবার নিয়ে শুরু করলেন ‘কিচেন বুক বাই ঝুম’।

সামিয়া জাফর ঝুম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী। শুরুর গল্পটা জানালেন তিনি।

বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষে প্রীতিলতা হলে উঠি। সকাল ৮টায় ক্লাস করার জন্য বের হয়ে বিকেল ২টায় এসে হলের ডাইনিংয়ে খাবার পেতাম না। অনেক দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে। ক্যাম্পাসে খাবারের মান খুব একটা ভালো নয়। শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা যেখানে প্রায়শই হচ্ছে।

আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ছিলো না। বাসায় জানানোর পরে আম্মু-আব্বু সিদ্ধান্ত নিলেন আমার জন্য ক্যাম্পাসেই বাসা নিবেন। এবং তাই হলো।

চবি ক্যাম্পাসে খাবারের মান বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু খাবারের নিশ্চয়তা নিয়েই আমার এই উদ্যোগ। অন্তত কয়েকজন শিক্ষার্থীও যদি হলে বা মেসে থেকে বাসার খাবারের স্বাদ পায় তাতেই সন্তুষ্টি।

ঝুম জানালেন, আমার উদ্যোগটা মূলত ঘরোয়া রান্না নিয়ে। সব ঘরোয়া খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘরের রান্নার একটা অভাব অনুভব করে, সেটাই দূর করার চেষ্টা।

মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতারের আয়োজনে আছে- হালিম, লুচি, চানাবুট, পেয়াজু, আলুর চপ, চিকেন বিরিয়ানি ও সালাদ। আর সেহেরিতে-মাছ, মাংস, ভাত, ডাল, মিক্স সবজি, ডিম বুনা, বিভিন্ন ভর্তা এবং চেপা শুটকি ইত্যাদি।

শুরুর এক বছরে ঝুমের উদ্যোগে সাড়া মিলছে অনেক। এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ। মাস প্রতি বিক্রিতে আয় ১০ হাজারের মতো বলে জানান ঝুম।

কম সময়ে ঝুম হয়ে উঠেছেন সুস্বাদু খাবারের এক ভরসার নাম। শুধু ক্যাম্পাসই নয় বাইরের জায়গা থেকেও আসে অর্ডার। রমজানের আয়োজন ছাড়াও বছরব্যাপী ঝুম বিরিয়ানি-কাচ্চি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাবাব, পুডিং, দেশি-বিদেশি সবজি, মাংসের আচার, ড্রাইফুড, বিফ, আচার, ফ্রাইড চিকেন, ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, কেক, বালাচাও, চিকেন মমো, মাছ ফ্রাই, কালাভুনা, ঝাল কদম, তেহারি, মুরগীর গ্রেভি রোস্ট, এবং পোলাও ডেলিভারি দিয়ে থাকেন।

ঝুম বলেন, প্রতিদিনই খাবারের অর্ডার পাচ্ছি। দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের পুরো প্রোগ্রামের খাবারও সরবরাহ করতে হয়। যারা একবার নেন তারা বারবারই নিচ্ছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি।

বেশিরভাগ বিক্রি অনলাইনে হচ্ছে। ‘কিচেন বুক বাই ঝুম’ ফেসবুক পেইজ এবং নিজে আইডির পরিচিত-অপরিচিত মানুষেরা অর্ডার করেন।

আলহামদুলিল্লাহ খাবারের রিভিউগুলো খুবই আনন্দের। যা কাজের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। রান্নার পাশাপাশি ছবিও আঁকেন ঝুম। বই পড়া, বাগান করা, ভ্রমণ, নতুন নতুন বিষয় ও প্রাণিজগতের প্রতিও আগ্রহ তার। মা এবং ছোটবোনের সহায়তায় জুমের রান্না করা খাবার এরইমধ্যে বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গেছে।

ঝুম স্বপ্ন দেখছেন আগামী দিনে নিজের তৈরি খাবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পৌঁছে যাবে।